সৈয়দপুরে ৯০ পেরোনো অসহায় বৃদ্ধার ভাঙা ঘর মেরামত করে দিলেন কলেজ অধ্যক্ষ।
সৈয়দপুর প্রতিনিধি: সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক কলেজ অধ্যক্ষ। তিনি নিজস্ব উদ্যোগে হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বসবাসরত ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ভাঙা ঘরটি মেরামত করে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বৃদ্ধার নাম আলো রানী দাস। বয়স ৯০ বছর পেরিয়ে গেছে। বার্ধক্যের কারণে তিনি এখন আর মনে করতে পারেন না তাঁর স্বামী কিংবা কোনো সন্তান আছে কি না। নিজের বলতে কোনো ভিটেমাটিও নেই তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দপুর উপজেলার হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠের এক কোণে, প্রতিষ্ঠানের জায়গায় একটি ভাঙা আধচালা ঘরে তিনি আশ্রয় নিয়ে আছেন।বৃদ্ধার এই আশ্রয়ের চারপাশ পুরনো কাপড় আর পলিথিন দিয়ে ঘেরা ছিল। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সেখানে কাটত তাঁর দিন। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে বিছানা, কাপড়চোপড়সহ সবকিছু ভিজে একাকার হয়ে যায়। শুকনা জায়গার অভাবে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে রাত কাটাতে হতো তাঁকে। সেই সাথে ছিল মশার তীব্র উপদ্রব। ঝড়-বৃষ্টির রাতে ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সবসময় আতঙ্কে দিন কাটত এই বৃদ্ধার।
আলো রানী দাসের এই চরম দুর্দশার খবর পেয়ে হাজারীহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কাছে ছুটে যান। তিনি নিজেই সেই ভাঙা ঘরে বসে বৃদ্ধার কষ্টের কথা শোনেন। এরপর বিলম্ব না করে তিনি নিজের ব্যক্তিগত খরচে ও উদ্যোগে পুরো ঘরটি নতুন করে মেরামত করার ব্যবস্থা করেন।ঘরটি ঠিক হওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করে বৃদ্ধা জানান, আগে সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ত, মশার যন্ত্রণায় ঘুমানো যেত না। এখন ঘরটি ঠিক হওয়ায় জীবনের শেষ বয়সে এসে তিনি অন্তত বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নিরাপদ আশ্রয় ও শুকনা জায়গায় ঘুমানোর সুযোগ পেলেন।নিরাপদে মাথা গোঁজার মতো বৃদ্ধার এই সামান্য চাওয়াটুকু পূরণ করে অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান চৌধুরী সমাজে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি