সম্পাদকীয় : অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর ও যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঢাকাগামী বাস যাত্রীদের ভোগান্তি আজ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে রাতের কোচগুলোতে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের যে অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হতে হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই ভোগান্তি যেন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।সম্প্রতি একজন ভুক্তভোগী যাত্রীর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, রাত পৌনে ১১টার নাবিল কোচের টিকিট কেটেও শহীদ জিকরুল হক সড়কের কাউন্টার থেকে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রংপুর রোডের আইয়ুব পাম্পের সামনে। বৃষ্টিতে ভিজে সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় চিত্র। না আছে কোনো যাত্রী ছাউনি, না আছে বসার ব্যবস্থা। ড্রেনের উপর আধা ভেজা অবস্থায় যাত্রীরা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল ষাটোর্ধ্ব এক দম্পতির চরম নাজেহাল অবস্থা। বাসের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে এই বয়সেও তাদের মালপত্র নিয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটতে হয়েছে। সৈয়দপুরের মতো একটি শহরে যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ রাজধানী অভিমুখে যাত্রা করেন, সেখানে একটি আধুনিক ‘ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড’ বা সমন্বিত যাত্রী ছাউনি না থাকাটা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে বিভিন্ন তেলের পাম্প বা রাস্তার মোড়কে অলিখিত স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত আলো, বসার আসন কিংবা টয়লেটের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এই পরিস্থিতি অবমাননাকর। আমাদের প্রশ্ন হলো—সৈয়দপুর পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি বিষয়টি নিয়ে ভাবছে? শহরের বাইরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে যদি সব কোচের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত টার্মিনাল করা যায়, তবেই এই বিশৃঙ্খলার অবসান সম্ভব। সেখানে যাত্রীদের জন্য ওয়েটিং লাউঞ্জ, পরিষ্কার ওয়াশরুম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।সৈয়দপুরকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিবহন খাতের এই বিশৃঙ্খলা দূর করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং সাধারণ যাত্রীদের এই ‘নরক যন্ত্রণা’ থেকে মুক্তি দেবেন।——-
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply