এম, এ খালেক, সৈয়দপুর (নীলফামারী)
১২ এপ্রিল নীলফামারীর সৈয়দপুরবাসীর হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত ও শোকাতুর স্মৃতির দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা শোয় শহীদ হওয়া দেড় শতাধিক সূর্যসন্তানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পালিত হয়েছে ‘সৈয়দপুর স্থানীয় শহীদ দিবস’।
শহীদদের রক্তের স্মৃতিধন্য রংপুরের নিসবেতগঞ্জ বালারখাল বধ্যভূমি এবং সৈয়দপুরের শহীদ স্মৃতি অম্লান আজ পরিণত হয়েছিল শোকাতুর মানুষের মিলনমেলায়।
দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১, সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার উদ্যোগে রংপুরের নিসবেতগঞ্জ বালারখাল বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি রোমন্থন করেন।আলোচনায় অংশ নেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিরঞ্জন বর্মণ।রংপুর জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। শহীদ পরিবারের সন্তানদের মধ্যে মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ, প্রকৌশলী মো. মোনায়মুল হকসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, ৫৪ বছর আগের সেই নির্মমতা আজও আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। প্রিয়জন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই বধ্যভূমিতে আসে শুধু শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিবেদন করতে নয়, বরং ত্যাগের সেই ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে।
দিনের শুরুতে সকালে সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি অম্লানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায় প্রজন্ম ’৭১ ও প্রথম আলো বন্ধুসভা। এ সময় এক নীরব শোকের আবহ তৈরি হয়, যেখানে উপস্থিত সবাই ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের পাশাপাশি স্থানীয় এই বীরদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান।
কি ঘটেছিল ইতিহাসের সেই কালো দিনে: ১২ এপ্রিল, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ডা. জিকরুল হকসহ শহরের প্রায় ১৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিককে আটক করে সৈয়দপুর সেনানিবাসে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ১৯ দিন অমানুষিক নির্যাতনের পর ১২ এপ্রিল তাদের নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর সেনানিবাসের দক্ষিণ পাশে ঘাঘট নদীর বালুচরে (নিসবেতগঞ্জ)।সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে মেশিনগানের ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় স্বাধীনতাকামী এই মানুষগুলোকে। শহীদদের তালিকায় ছিলেন:ডা. জিকরুল হক (তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য)ডা. সামসুল হক, ডা. বদিউজ্জামান ,তুলশীরাম আগরওয়ালা, রামেশ্বর আগরওয়াল, রেলওয়ে কর্মকর্তা আয়েজ উদ্দিনসহ অসংখ্য অকুতোভয় মানুষ।
এটি একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়। এটি সৈয়দপুরবাসীর আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং কান্নার ইতিহাস। নিজ জন্মভূমির স্বাধীনতার জন্য যারা হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের এই স্মৃতি চিরকাল অম্লান থাকবে সৈয়দপুরবাসী সহ বাঙালির হৃদয়ে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply