ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রসুলপুর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ,গ্রামের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহৎ মসজিদ। প্রায় ৩৬ বছর আগে বাঁশের চাটা-ছট দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ মসজিদটি আজ নান্দনিক টাইলস ও আধুনিক স্থাপনায় দৃষ্টিনন্দন রূপ পেয়েছে। তবে মসজিদের এই চাকচিক্যের আড়ালে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জীবন-সংগ্রামের গল্প রয়ে গেছে অজানাই।
রসুলপুর মসজিদের মুয়াজ্জিন ৬২ বছর বয়সী সমরুজ মিয়া। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মসজিদের খেদমতে নিয়োজিত। তিনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেন। ৯ সদস্যের পরিবার তার। প্রতি সপ্তাহে মসজিদপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করেন। মসজিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও নিজ হাতে করেন। অথচ কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না।
অন্যদিকে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ কারী ফয়সল আহমেদ। তিনি আলিম পাস ও একইসাথে কোরআনের হাফেজ। গত ১৫ বছর ধরে তিনি বিভিন্ন স্থানে ইমামতি করার পর বর্তমানে রসুলপুর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাত্র ৯ হাজার টাকা মাসিক বেতনে ৫ সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে তার পরিবার। কন্যা তৃতীয় শ্রেণিতে, এক ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে, আরেকজন দুধের শিশু।
ইমাম সাহেব জানান, আমার মাসিক বেতন ৯ হাজার টাকা। কিন্তু সংসারের খরচ ১৫ হাজার টাকার বেশি। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ধার-দেনা করতে হয়।
তার সংসার চলে মসজিদের বেতন, কিছু টিউশন ফি এবং সামান্য হাদিয়ার ওপর নির্ভর করে। মসজিদের বেতনের উৎস মূলত গ্রামের মুষ্টি চাল, দানবাক্স ও পরিবারপ্রতি বাৎসরিক স্বল্প হাদিয়া।
ইমাম হাফেজ কারী ফয়সল আহমেদ নির্বাচিত সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ”আমাদের যদি প্রাইমারি শিক্ষকের সমমানের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হতো, তাহলে আমরা সম্মানের সঙ্গে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করতে পারতাম। অন্তত ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হতো না।ইমাম মুয়াজ্জিনদের এই বোবা কান্না দেখে ও যেনো দেখার মতো কেউ নেই।এই ভাগ্যের অবস্থান গুছবে কবে সেই আশায় দিনপার করছি।”
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply