১ টাকায় ঈদের আনন্দ: সৈয়দপুরের শতাধিক শিশুর মুখে হাসির ঝিলিক।
এম এ খালেক সৈয়দপুর (নীলফামারী):
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই নতুন জামা। কিন্তু দারিদ্র্যের কষাঘাতে সেই আনন্দ যখন ম্লান হতে বসেছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলো একঝাঁক তরুণ। মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়ে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর ঈদের স্বপ্ন পূরণ করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুরের গোলাহাট এলাকায় দেখা যায় এক আবেগঘন দৃশ্য। সামিয়ানা টাঙানো একটি অস্থায়ী দোকানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে একদল শিশু-কিশোর। কারো হাতে এক টাকার কয়েন, কারো হাতে ছিঁড়ে যাওয়া নোট। লক্ষ্য একটাই—নিজের পছন্দের নতুন জামাটি কেনা।
মূলত শিশুদের মনে ‘সাহায্য’ নেওয়ার গ্লানি মুছে দিতেই এই ১ টাকার প্রতীকী মূল্য নির্ধারণ করেছে আয়োজকরা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী জানান, সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুর ঈদ যেন অপূর্ণ না থাকে, তাই সদস্যদের নিজস্ব অর্থায়নে এই আয়োজন। শুধু ছোটদের পোশাক নয়, এখানে অসহায়দের জন্য শাড়ি, লুঙ্গি এবং থ্রি-পিসও রাখা হয়েছে মাত্র ১ টাকায়।
১০ বছরের রেহান আর ৮ বছরের আকাশির পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ঈদের নতুন জামা ছিল তাদের কাছে কল্পনার মতো। ১ টাকায় নতুন ফ্রক আর শার্ট পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তারা জানায়, “এবার ঈদে আমরাও নতুন জামা পরে ঘুরতে পারব!” বাবা হারানো সাবিনা ও কৌশিকের চোখেও ছিল একই আনন্দের অশ্রু।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, এটি কেবল পোশাক বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মাঝে সেমাই, চিনি, দুধসহ ঈদ সামগ্রীও পৌঁছে দেওয়া হবে। এই মানবিক হাট চলবে ঈদের চাঁদ রাত পর্যন্ত।
সৈয়দপুরের তরুণদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা প্রমাণ করে দিল—মানুষ মানুষের জন্য। ১ টাকার এই বিনিময়ে হয়তো অর্থ খুব সামান্য, কিন্তু শিশুদের মুখে ফুটে ওঠা সেই হাসির দাম অমূল্য।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি