কলেজটির ৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর সবার সনদই জাল, এমনকি অধ্যক্ষের সনদও।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ নিয়োগ জালিয়াতি, জাল সনদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের সনদই জাল। এর মধ্যে কলেজ শাখার ৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর সবার সনদই জাল। এই সনদ দিয়ে চাকরি করে সরকারের সাড়ে ৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলেজ শাখায় কর্মরতরা ৪ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং স্কুল শাখার শিক্ষক-কর্মচারীরা ১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৮০১ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ নিয়েছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকের স্নাতকোত্তর সনদের সঙ্গে তার প্রকৃত পরিচয়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট সনদধারীর পিতার নাম ‘Md Asir Uddin’ এবং মাতার নাম ‘Mrs Ahmeda Khatun’ হলে সনদটি সঠিক। অথচ ইমদাদুল হকের এসএসসি, আলিম ও চাকরির কাগজপত্রে পিতার নাম ‘মো. আজহার আলী’ এবং মাতার নাম ‘মমিরন নেছা’ উল্লেখ রয়েছে। ফলে সনদটিকে জাল বলে অভিহিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
বনপাড়া আদর্শ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফ রব্বানীর কাছ থেকে ৯ লাখ ১ হাজার ৮৭৭ টাকা, চার সহকারী শিক্ষক আছাদুজ্জামান, শামছুন নাহার, নাসরীন সুলতানা এবং আয়েশা খাতুনের কাছে যথাক্রমে ৮ লাখ ৫ হাজার ১৯৪, ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৮, ২৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৪৮ এবং ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ২৬০ টাকা করে ফেরত পাওয়া যাবে। এছাড়া অফিস সহায়ক ইসমেতারা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী আবু নাঈম আয়া ঝর্ণা আক্তার এবং নৈশপ্রহরী তরিকুল ইসলামের কাছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৮১৫, ৫ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩, ৫ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩ এবং ৫ লাখ ৬০ হাজার ৭২৩ টাকা করে ফেরত পাবে সরকার
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি