সৈয়দপুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে প্রধান ডাকঘরের কার্যক্রম: যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
নীলফামারীর সৈয়দপুর প্রধান ডাকঘর-৫৩১০ ভবনটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং অবকাঠামোগত জীর্ণদশার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ভবনটি অনেকটা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হলেও বাধ্য হয়েই এর ভেতরে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
সরজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরনো এই ভবনটির অবস্থা বর্তমানে নাজুক। দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় ছাদের পলেস্তারা খসে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি ভবনের কিছু অংশে চুনকাম এবং ফাটল ধরা স্থানে সাময়িক প্রলেপ দেওয়া হলেও একে কেবল ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো সংস্কার বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এসব জোড়াতালির কাজ ভবনের মূল ঝুঁকি বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি।আতঙ্কে কর্মচারী ও গ্রাহকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডাকঘরের কয়েকজন কর্মচারী জানান, প্রতিদিন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও বিরাজ করছে আতঙ্ক। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক গ্রাহকরা ভবনের ভেতরে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা এক গ্রাহক বলেন, “ভবনটির যে অবস্থা, তাতে ভেতরে ঢুকলে মনে হয় কখন মাথায় ছাদ ভেঙে পড়ে। দ্রুত কাজ শেষ করে বের হতে পারলেই বাঁচি।
ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ডাকঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি ইতিমধ্যে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।সৈয়দপুরের সচেতন মহলের দাবি, একটি আধুনিক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দ্রুত সংস্কার অথবা বিকল্প কোনো নিরাপদ স্থানে ডাকঘরের কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য তারা জোর দাবি জানিয়েছেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি