সৈয়দপুরের দেড়শ বছরের প্রাচীন ক্যাথলিক গির্জা। নীলফামারীর বুকে ব্রিটিশ ইতিহাসের সাক্ষী।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রেলের শহর সৈয়দপুরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো এক রোমান ক্যাথলিক গির্জা। ব্রিটিশ শাসন আমলের স্থাপত্যকলা আর ঐতিহ্যের মিশেলে তৈরি এই গির্জাটি আজও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।১৮৭০ সালে ব্রিটিশ সরকার সৈয়দপুরে যখন দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা স্থাপন করে, তখন এখানে কাজের প্রয়োজনে বহু ব্রিটিশ এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস শুরু করেন। তাদের ধর্মীয় উপাসনার সুবিধার্থে ১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ সরকার সৈয়দপুর রেলস্টেশনের নিকটবর্তী সাহেব পাড়ার দুই প্রান্তে দুটি গির্জা নির্মাণ করে। এর মধ্যে একটি হলো এই রোমান ক্যাথলিক গির্জা এবং অন্যটি প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের ‘ক্রাইস্টচার্চ’।রোমান ক্যাথলিক গির্জাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর গথিক স্থাপত্যশৈলী। লাল ইটের এই স্থাপনাটি রোমান ও ইউরোপীয় স্থাপত্যকলার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এর সুউচ্চ মিনার এবং কারুকার্যময় দেয়াল আজও ব্রিটিশ যুগের আভিজাত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। গির্জা প্রাঙ্গণে রয়েছে মনোরম পরিবেশ এবং একটি পুরনো পুরোহিত ভবন, যা তিন বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত।ভ্রমণ পিপাসুরা খুব সহজেই আসতে পারেন।সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের খুব কাছেই, রেলওয়ে কারখানার প্রবেশ পথে সাহেব পাড়া এলাকায় এই গির্জাটির অবস্থান। শান্ত স্নিগ্ধ সবুজ পরিবেশের কারণে পাখির কিচিরমিচির শব্দে এখানে দর্শনার্থীরা নিয়মিত ভিড় করেন।এই গির্জা দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা এবং সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় অনন্য স্থাপত্যের চিনি মসজিদ দেখে আসতে পারেন।কিভাবে যাবেন?ঢাকা থেকে সড়ক, রেল কিংবা আকাশপথে সরাসরি সৈয়দপুর আসতে পারেন। এছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকে বাস এবং ট্রেনে আসতে পারেন। সৈয়দপুর শহর থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে খুব সহজে সাহেব পাড়ার এই গির্জা সহ অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা সমূহ ঘুরে যেতে পারেন। #hellosaidpur24news#ভ্রমণ #Saidpur #Nilphamari #travel #history
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply